হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বরাদ্দ আসার আগেই পৌরসভায় শুরু হয়েছে নানান কান্ড
মোঃ জাফর ইকবাল হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
নবীগঞ্জ পৌরসভার এডিপির বরাদ্ধ আসার আগেই টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে পরিষদসহ গোটা পৌর এলাকায় হৈচৈ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নবীগঞ্জ পৌরসভা অনলাইনে প্রায় কোটি টাকার টেন্ডার করা হয়।
উক্ত টেন্ডারের বিষয়ে পরিষদের কাউন্সিলর বা প্যানেল মেয়রসহ টেন্ডার কমিটির আহ্বায়কও অবগত নয় বলে জানাগেছে। এ নিয়ে পুরো পৌরসভায় হৈচৈ শুরু হয়েছে। অনেকেই বলেছেন বিএনপির সমর্থিত মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কাউন্সিলর ও পরিষদকে পাস কাটিয়ে উনার মনগড়া মতো টেন্ডার করেছেন। উক্ত টেন্ডার প্রত্যাখান করার পরিকল্পনা করছেন কাউন্সিলরগণ।
সুত্রে জানাগেছে সরকার এখন পর্যন্ত এডিপির কোন অর্থ বরাদ্ধ দেয় নি। নিয়মানুযায়ী অর্থ বরাদ্ধ আসার পর, পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত মতে টেন্ডার করা হয়। কিন্তু নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পরিষদের শেষ বছরে এসে তথ্য গোপন রেখে কোটি টাকার টেন্ডার করেন।
এছাড়া মেয়র এর পছন্দ মতো পৌর এলাকার কয়েকটি সড়কে সড়ক বাতির লাইন টানানো হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরগণ অবগত নয়।
গোপন সুত্রে জানাগেছে, সরকার এ বছর এডিপির বরাদ্ধ দিয়েছেন প্রায় ১ কোটি টাকা। অথচ মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেছেন এখনও কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। সহকারী প্রকৌশলী ভবি মজুমদার জানান, এডিপি বরাদ্ধ এখনও আসেন ন। তবে মেয়র এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইনে টেন্ডার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক ৩ বারের মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক তোফাজ্জুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১৭ বছর টানা মেয়র ছিলাম। বরাদ্ধ সাপেক্ষে একটি টাকাও পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া টেন্ডার করিনি।
কিন্তু বর্তমান মেয়র এর টেন্ডার কাহিনী শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। বরাদ্ধের তথ্য গোপন রেখে এবং পরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিত কিভাবে টেন্ডার হলো সেটা বোধগোম্য নয়। এ ব্যাপারে প্যানেল মেয়র-২ ও কাউন্সিলর বাবুল চন্দ্র দাশ বলেন, টেন্ডার হয়েছে শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোন মিটিং হয়নি। মেয়র সাহেব বলেছেন, সম্ভাব্য কাজের তালিকা দেয়ার জন্য। বরাদ্ধ আসার সাথে সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে যাতে দ্রুত টেন্ডার করা যায়। আমরা বরাদ্ধ প্রাপ্তি এবং মিটিংয়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন শুনলাম পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই টেন্ডার করা হয়েছে।
উক্ত মনগড়া টেন্ডারে আমার ওয়ার্ডে কাজ করাবো কি না তা ভেবে সিদ্ধান্ত নিব। কাউন্সিলর আব্দুস ছালাম বলেন, মেয়র আমাদের ধুকা দিয়ে প্রকল্প তৈরী করে গোপনে মনগড়া টেন্ডার করেছেন। উক্ত টেন্ডার আমি প্রত্যাখান করি। কাউন্সিলর জাকির হোসেন বলেন, গত মাসিক মিটিংয়ে মেয়র সাহেব ৩ লাখ টাকার প্রাথমিক প্রকল্প তৈরীর করে দেয়ার কথা বলেন। বরাদ্ধ আসলে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে টেন্ডার করা হবে। এ ব্যাপারে কোন মিটিং হয়নি। পরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিত মেয়র কি ভাবে টেন্ডার করলেন তা জানা নেই। কাউন্সিলর প্রানেশ দেব বলেন, পৌরসভায় এডিপির টেন্ডার হয়েছে তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে পরিষদের কোন মিটিংয়ে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, বরাদ্ধ আসেনি। প্রতি ওয়ার্ডে ৩ লাখ টাকা করে প্রকল্প তৈরী করতে বলেন। কথা ছিল বরাদ্ধ আসলে পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে টেন্ডার করা হবে। কাউন্সিলর কবির মিয়া বলেন, পৌরসভা কর্তৃক এডিপি বরাদ্ধের টেন্ডার করা হয়েছে শুনে হতবাক হয়েছি। পরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিত টেন্ডার করার নিয়ম আছে কি না আমার জানা নেই। কাউন্সিলর সুন্দর আলী বলেন, টেন্ডারের বিষয়ে কোন মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে প্যানেল মেয়র-১ ও টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামীলীগ নেতা এটিএম সালাম বলেন, নবীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্টা কাল থেকেই একটি অরাজনৈতি পরিষদ হিসেবে দলমতের উর্ধ্বে উঠে সকলে মিলে মিশে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এই পরিষদের শেষের দিকে পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা ছাবির আহমদ চৌধুরী এডিপি বরাদ্ধ আসেনি, ঘোষনা দিয়ে মনগড়া পরিষদের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে প্রায় কোটি টাকার টেন্ডার করে বিএনপির এজেন্ডা বাস্তয়িত করার হীন মন মানষিকথার পরিচয় দিয়েছেন। আমি উক্ত টেন্ডার প্রত্যাখান করি। এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান

No comments