৯০'র দশকে ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব হয়েছিল নায়ক সালমান শাহ্।
ডেস্ক রিপোর্ট:
১৯৮৫ সালে বিটিভিতে হানিফ সংকেতের গ্রন্থনায় 'কথার কথা' নামক একটি
ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সালমান
শাহর অভিনয় জীবন শুরু হয়।
সে অনুষ্ঠানে হানিফ সংকেতের নিজ কন্ঠে গাওয়া গানে, এক তরুণের ভূমিকায়
অভিনয় করেন সালমান শাহ্। ১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটকের
মাধ্যমে তার অভিষেক হয় টিভি নাটকে।
১৯৯২ সালের খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ভারতের হিন্দী
সিনেমা কেয়ামতছে কেয়ামত তাক কপিরাইট কে নিয়ে নির্মান করেন কেয়ামত থেকে কেয়ামত
সিনেমাটি। ঐ সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমির বিপরীতে অভিনয় করে ইমন হয়ে যান সালমান
শাহ আর বাংলা সিনেমার সব মহলের দশর্করা খুজেঁ পান এক অসাধারণ দ্রুবতারাকে।
মৌসুমীকে দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখলেও সালমান শাহ র সবার্ধিক সিনেমার
নায়িকা ছিলেন আর খ্যাতিমান অভিনেত্রী শাবনূর। তুমি আমার,সুজন সখী,বিক্ষোভ,স্বপ্নের
ঠিকানা স্বপ্নের পৃথিবী,তোমাকে চাই,আনন্দ অশ্রু এবং চাওয়া থেকে পাওয়াসহ মোট ১৪ টি
সিনেমা উপহার দেন সালমান শাবনূর ঝুটি।
মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ১৯৯০'র দশকে বাংলাদেশের
চলচ্চিত্রে আলোড়ন তুলেছিলেন নায়ক সালমান শাহ। সাতাশটি সিনেমার বেশিরভাগই ছিল
আলোচিত এবং ব্যবসা সফল। ১৯৭০-৮০'র দশকের নায়কদের পরে চলচ্চিত্রে সালমানের
আবির্ভাব এক ধরণের তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল। নায়ক রাজ্জাক, আলমগীর এবং ফারুকের পর সে সময় নতুন একদল তরুণ অভিনেতার
আবির্ভাব হয়েছিল ঢাকার সিনেমা জগতে।
১৯৭১ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়ায়, বাবা কমরউদ্দিন
চৌধুরী মা নীলা চৌধুরীর ঘর আলো করে পৃথিবীতে আসেন শাহরিয়া চৌধুরী ইমন। সালমান
পড়াশোনা করেন খুলনার বয়রা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। একই স্কুলে তার প্রথম ছবির
নায়িকা মৌসুমীও তার সহপাঠী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকার ধানমণ্ডি আরব মিশন
স্কুল থেকে এসএসসি ,আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন ইমন। ধানমণ্ডির
ড. মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালের ১২ই আগস্ট জাতীয়
ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার মেয়ে
ও সালমান শাহর খালার বান্ধবীর মেয়ে সামিরা কে বিয়ে করেন তিনি । সালমানের
স্ত্রী সামিরা পেশায় একজন বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী ছিলেন।
সালমান শাহ'র অভিনয়ের মধ্যে দর্শক একটা ভিন্নধারা খুঁজে পেয়েছিল। অনেকে আবার সালমান শাহ'র মধ্যে বলিউড নায়কদের ছায়াও খুঁজে পেয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে তার নিজ বাস ভবনে সিলিং
ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে
আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য থেকে যায়।
সালমানের মৃত্যু-সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল দেশ ও বিদেশের নানা পত্রিকায়।
বিবিসি, এমনকি বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনেও প্রকাশিত হয়েছিলো তার মৃত্যু-সংবাদ। ১৯৯৬ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত টাইম
ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয় সালমান শাহ ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা তারকা। ২৫
বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যুতে সারা দেশ কীভাবে শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন ও কয়েকজন
তরুণীর আত্মহত্যার কথাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তদন্ত বিভাগ পুলিশ ব্যুরো
অব ইনবেস্টিগেশন (পিবিআই )জানায়, যে সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিলেন।
ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটেছিল তার। মাত্র চারটি বছর ছিল তার
অভিনয়জীবনের ব্যাপ্তি।
আজকের ধ্বসে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে তার মতো কাউকেই প্রয়োজন,
যে আবারও চলচ্চিত্রে একটা বিপ্লব ঘটাতে পারবে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে দেবে পুরো
চলচ্চিত্রাঙ্গন। তার ২৪মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্বরণ করছি সবার
প্রিয় নায়ক সালমান শাহকে।

No comments