Recent comments

ব্রেকিং নিউজ

সিনহার মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, সিফাত কেন কারাগারে!


বরগুনা প্রতিনিধি, বরিশালঃ নাজগীর আহম্মদ।

বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার সাবেক মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সাথে একই গাড়িতে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বাড়ি উপকূলীয় জেলা বরগুনার বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম নুর মোস্তফা। মা লন্ডন প্রবাসী মোসা. শিলা খান। নানা বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত কবির হাওলাদার।


সিফাত এ বছর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফ্লিম ও মিডিয়া বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি বামনা সরকারি সারওয়ারজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও বামনা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত, শিপ্রা রানী দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূর প্রোডাকশনের কাজ করছিলেন বেশ অনেক দিন ধরেই। বছরখানেক আগে তাঁদের পরিচয় হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদের সঙ্গে। একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য এই তিনজনকে নিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো রাশেদ খান গিয়েছিলেন কক্সবাজার।

সরকারি একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ জুলাই ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন সিনহা। প্রায় এক মাস তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেন। ৩১ জুলাই বিকালে সঙ্গী সিফাতকে নিয়ে সিনহা কক্সবাজার থেকে টেকনাফের শামলাপুর পাহাড়ে যান।

এ সময় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার পরনে ছিল কমব্যাট টি-শার্ট, কমব্যাট ট্রাউজার ও ডেজার্ট বুট। সন্ধ্যা ও রাত্রিকালীন শুটিং শেষ করে তারা রাত সাড়ে আটটার দিকে পাহাড় থেকে নেমে আসার সময় স্থানীয় কয়েকজন লোক ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার দেন এবং শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেন। পাহাড় থেকে নেমে সিফাতকে নিয়ে সিনহা নিজস্ব প্রাইভেট কারে ওঠেন। রাত ৯টার দিকে তারা পৌঁছেন শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে। সেখানে আগে থেকেই ডাকাত প্রতিরোধে প্রস্তুত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের সদস্যরা।

পুলিশের সংকেত পেয়ে মেজর সিনহা গাড়ি থামান এবং নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে তাদের চলে যাওয়ার সংকেত দেওয়া হয়।

পরে পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাদের পুনরায় থামান এবং তাদের দিকে পিস্তল তাক করে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। সিফাত হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির পেছনের দিকে গিয়ে দাঁড়ান। সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পর পরই পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন।

গুলি করার পর পরই রাত পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় জনগণ ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাঠকর্মী সার্জেন্ট আইয়ূব আলী। তখন গুলিবিদ্ধ সেনা কর্মকর্তাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

আইয়ূব আলী ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে চাইলে পুলিশ পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দেওয়ার পর পুলিশ তার হাত থেকে মুঠোফোন সেট ও তার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেন।
রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আনা হয় একটি মিনিট্রাক। ট্রাকে ওঠানোর সময়ও মেজর সিনহা জীবিত ছিলেন এবং নড়াচড়া করছিলেন।

এর পর সিনহাকে নিয়ে ট্রাকটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর। তখন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিনহাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১ ঘণ্টার পথ। অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট অতিবাহিত করা পুলিশের একটি অপকৌশল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাহারছড়ার শামলাপুর চেকপোস্টে সেই রাতের ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটো মামলা করেছে পুলিশ। সে সময় গাড়িতে সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাত নামের এক যুবককে আসামি করা হয়েছে। সিফাত এখন কারাগারে।

বুধবার বামনা সরকারি সারওয়ারজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিফাতের সহপাঠীরা সিফাতের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশের টহলে ওই মানবন্ধন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বরগুনা জেলার সচেতন মহলের উদ্বেগের ও ক্ষোভে জন্ম নিছে। জেলার সাধারণ জনগণের দাবি অনতিবিলম্বে সাহেদুল ইসলাম সিফাতের নিঃশর্ত মুক্তি এবং মেজর সিনহার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূল শাস্তি।

No comments