Recent comments

ব্রেকিং নিউজ

মুরাদনগরে ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের


সফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা  প্রতিনিধি:

আর কিছুদিন পরেই উদযাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদের আমেজ কম বেশি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঈদে গরু, ছাগল, উটকে কোরবানি পশু হিসেবে জবাই করা হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যস্ত কোরবানির পশু জবাই চলে।

 এসব পশুর গোশত কাটতে দা-বটি, ছুরি-ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য। তাই এই ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মুরাদনগরের কামার মিল্পীরা। হাতুরির টুং টাং আওয়জে মুখরিত হয়ে উঠেছে মুরাদনগরের হাট বাজার। 

টগবগে লাল হয়ে উঠা লোহার উপর ভারি হাতুরি দিয়ে কেউ পেটাচ্ছে, কেউবা কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছে, কেউবা শান দিচ্ছে ছুরি,দা বা বটি। দিন রাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে তারা।

 এই ব্যস্ততার মাঝেই চলছে বেচাকেনার কাজ। কোরবানি দাতারা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য ছুটে আসছে কামারদের দোকানে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে আগের মত ক্রেতা না থাকলেও ব্যস্ততার কমতি নেই কামার শিল্পীদের। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায়। কথা হয় বিভিন্ন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে।

কোরবানির জন্য বটি ও ছুরি কিনতে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কোরবানির গরু কাটার জন্য নতুন নতুন যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রতিবছরই যন্ত্রপাতি কিনতে হয়। এবারও বটি ও ছুরি কিনেছি। আগের কুলনায় যন্ত্রপাতির দামটা এবার একটু বেশি।

উপজেলার সদরের কামার শিল্পী বিধু কর্মকার জানান, বছরের বেশির ভাগ সময়ই আমাদের কাজ কম থাকায় বেশির ভাগ সময়ই অলস সময় কাটাতে হয়। সারা বছর এই ঈদের অপেক্ষায় থাকি। ঈদ এলেই মনে হয় যেন আমাদের ভাগ্যের সুদিন এসেছে। তাই নিরলস পরিশ্রম করে তৈরী করি বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি। তবে এবার করোনার মহামারীর কারনে অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজের চাপ কম।

আরেক কামার শিল্পী নারায়ন কর্মকার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাজের চাপ কম। তাছাড়া লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিশ্রমের তুলনায় তেমন দাম পাওয়া যাচ্ছেনা।

বাজাওে ঘুরে দেখা যায়, আকার ভেদে একশ থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যে বিভিন্ন হাতিয়ার বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে চাপাতি ৩০০-৫০০ টাকা, ছুরি ৩০-৪০০ টাকা এবং বটি ২০০-৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বড় ছুরি ৪০ টাকা, চাপাতি ৫০ টাকা, দা ৫০ টাকা ও ছোট ছুরি ২০ টাকায় শাণ দেওয়া হচ্ছে।

No comments