Recent comments

ব্রেকিং নিউজ

হত্যা করে করোনা রোগী বলে ধামাচাপা দিতে চাই সন্ত্রাসী ইমাম উদ্দীন অপু





 রিপোর্টার : মোহাম্মদ রাকিব বিন রহিম রবিন:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা ডাটা এন্ট্রি গ্লোবাল অফিসে আগ্রাবাদ শাখার কিউসি পদে চাকরি করতেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এর স্থানীয় বাসিন্দা (মৃত) রিফাত সুলতানা চকবাজার এ ব্লকে লায়লা হাউস নামের একটি চার তলা ভবনের নিচ তলায় সাব্লেট বাসায় ভাড়া থাকতেন। সে পরিবারের চার বোনের মধ্যে সবার বড়। 

একই বাসার পাশের রুমে একটা কক্সবাজারের বাসিন্দা দম্পতি থাকতেন। তিনি একটা প্রাইভেট কোম্পানির সুপারভাইজার ছিলেন। মৃত ভিক্টিম সকাল ১০ টায় অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিতেন আসতেন ৫/৬ টা মধ্যে। 

মে মাসের ১৪ তারিখ সকাল ১০ টার দিকে পরিবারের সাথে কথা বলে (মৃত) রিফাত সুলতানা বাড়ির উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়া যাত্রা করে। ১৪ তারিখ না আসলে (মৃত) রিফাত সুলতানার ছোট বোন রিয়াদ সুলতানা বার বার কল দিতে থাকেন। এক সময় অপর প্রান্তে কেউ একজন রিসিভ করে এবং মেয়ের কন্ঠে রিফাত সেজে কথা বলেন। 

এতে (মৃতের) বোন বুঝতে পারেন এটি রিয়াদ সুলতানার বোন নন। পরের দিন ১৫ তারিখ কল দিতে থাকলে (মৃত) রিফাত সুলতানার মোবাইল থেকে জিসান নামের এক পাঠাওয়ের রাইডার কল রিসিভ করে। ছোট বোন রিয়াদ সুলতানাকে জানান তার বোন মারা গেছে এবং কেউ একজন তাকে মৃত অবস্থায় চকবাজার ফেলে গেছে। এদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ভয়ে কেউ মৃতের পাশে আসেনি।

 পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নগরীর হেলথ কেয়ার এন্ড ক্লিনিক এ ভিক্টিমকে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভালোভাবে না দেখেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বলা হয় করোনা আক্রান্ত হয়ে বা স্ট্রোক করে রোগী মারা যেতে পারে।

 অন্যদিকে মৃতের পরিবারের দাবি প্রায় ৫/৬ বছর ধরে ২৭ বছরের এক বখাটে (মৃত) রিফাত সুলতানাকে উত্যক্ত করে আসছিল এবং সে একটা রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে।

 তাদের পরিবারের উপর দিনের পর দিন মানসিক অত্যাচার করে আসছে। তাদের দাবি তার বোনকে দিনের পর দিন ঐ বখাটে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য তারা শহরমুখী হতে বাধ্য হয়।

 কিন্তু সেখানেও অন্যান্য বখাটেদের সহযোগিতায় রিফাত সুলতানার গতিবিধি নজরদারিতে রাখত। ঐ বখাটে বিভিন্ন সময় ফোন করে তার উপর নজরদারির কথা বলে সহযোগী বখাটে দিয়ে তাকে উত্যক্ত করত। পরিবারের দাবি ২৭ বছরের বখাটে ইমাম উদ্দিন অপু পরিকল্পিতভাবে তাদের মেয়ে/বোনকে হত্যা করে।

 রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চলাই তার বিরুদ্ধে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পায়নি তার পরিবারের কেউ। এটা নিয়ে বেতাগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (মৃতের) আত্মীয় বিভিন্নভাবে করার চেষ্টা চালিয়েছে তাতেও বখাটে ক্লান্ত হয়নি। 

 অন্যদিকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত থানায় ঘুরাঘুরি করে পরে পুলিশ কমিশনার মাহবুব সাহেবের নির্দেশে 27/05/2020 এই মামলা গ্রহণ করেন চকবাজার থানা,মামলা নং ৩/৪৫/২০২০ মামলা করা হলে চকবাজার থানার ওসির নির্দেশে দ্রুত ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। 

ময়না তদন্তের রিপোর্ট ফেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে মৃতের গোসলের সময় মরদেহের মাথা তেতলানো এবং পিটে ছুরির আঘাত পাওয়া গেছে বলে মৃতের গোসল দেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা নিশ্চিত করে। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে মৃত রিফাত সুলতানার আপন বোন ও ছিল। 

সন্ত্রাসী ইমাম উদ্দীন অপু অনেক বার মৃত রিফাত সুলতানার এবং ছোট বোনকে রাস্তায় জিম্মি করে যৌন হয়রানি করত, এসব কথা কাউকে বললে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিত।

 বিদেশি পিস্তল হাতে তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে জানান। মৃতের ছোট বোন রিয়াদ সুলতানা জানান পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয় আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করছে। আমরা চাই অপরাধীকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া হোক।

এদিকে মৃতের পরিবার এবং এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হত্যার বিচের চেয়ে এলাকায় ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। 

তখন রিফাতেরর বোন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলে আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার চাই। আপনি বলে ছিলেন অপরাধী যেই হোক তার বিচার করবেন, সে যে দলেরই হোক না কেন। আমরা আপনার বিচারের অপেক্ষায় আছি। আপনি আমাদের পাশে দাঁড়ান।

No comments