যুগে যুগে হজ্ব বাতিলের পটভূমি
মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম :
সারাবিশ্ব করোনা ভাইরাসের কারণে একধরনের থমকে গেছে। রেলপথ-আকাশপথ থেকে নিয়ে এক দেশের সাথে অন্য দেশে যাওয়ার প্রায় সমস্ত মাধ্যমই বন্ধ রয়েছে। একই কারণে মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কা-মদীনাতেও চলছে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মৌসুমে হজ্বও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যে সৌদি সরকার অন্যান্য দেশের মুসলমানদের হজ্বব্রত পালনের ব্যাপারে ধীরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানোর মধ্য দিয়ে তার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যদি শেষ পর্যন্ত হজ বাতিল করতেই হয়, সেটা হবে প্রায় দেড়শ বছরের মধ্যে হজ বাতিলের প্রথম ঘটনা। কিন্তু এর আগেও বিভিন্ন সময় নানা কারণে হজ বাতিল করা হয়েছিল।
প্রথমবার বাতিল হয়েছিল ৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে, আব্বাসীয়দের সময়, ইসমাঈল বিন ইউসুফের মক্কা আক্রমণের কারণে।
এরপর বন্ধ হয়েছিল ৯৩০ সালে। কট্টর শিয়া গ্রুপ কারমাতিদের আক্রমণে সে বছর ৩০,০০০ হাজি শহিদ হয়েছিল।
তারা হাজিদেরকে হত্যা করে তাদের লাশ জমজম কুপে ফেলে দিয়েছিল। ফিরে যাওয়ার সময় তারা সঙ্গে করে হাজরে আসওয়াদ বাহরাইনে নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে হাজরে আসওয়াদ পুনরুদ্ধার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এক দশক হজ বন্ধ ছিল।
৯৮৩ থেকে ৯৯০ সাল পর্যন্ত হজ বাতিল হয়েছিল রাজনীতির কারণে।
ইরাক ও সিরিয়া ভিত্তিক আব্বাসীয় খিলাফত এবং মিসর ভিত্তিক ফাতেমীয় খিলাফতের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে সেবার ৮ বছর পর্যন্ত হজ বন্ধ ছিল।
শুধু যুদ্ধ-বিগ্রহ না, মহামারির কারণেও হজ বাতিল হয়েছিল।
প্রথমে ১৮১৪ সালে হেজাজ প্রদেশে প্লেগের কারণে ৮,০০০ মানুষ মারা যাওয়ায় হজ বাতিল করা হয়।
এরপর ১৮৩১ সালে ভারত থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের মাধ্যমে মক্কায় প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং চার ভাগের তিন ভাগ হাজি মৃত্যুবরণ করে।
ফলে সে বছর হজ বাতিল করা হয়।
এছাড়াও ১৮৩৭ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে প্লেগ এবং কলেরার কারণে তিন বারে মোট ৭ বছর হজ বন্ধ ছিল।
এবারও যদি হজ বন্ধ হয়, তবে, সেটা হবে খুবই দুঃখজনক একটা ঘটনা। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও লক্ষ্যণীয়, অতীতেও হজ বাতিল হয়েছিল।

No comments