কেউ বুঝে না মধ্যবিত্তের দুঃখ
মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম :
না পারে গিলতে, না পারে বমি করতে-এরাই মধ্যবিত্ত। আমরা হয়তো জানি, মধ্যবিত্তরা বেকার না, এরা কর্ম ও শ্রমজীবী। ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা মাস শেষে পাওয়া বেতনে পরিবার চালায়। এরা ভালো কাপড় পরিধান করে।উপোস থাকে না, কোনমতে পরিবারের আহার জোগাড় করে। বাইরের পোশাক দেখে তাদের অার্থিক অবস্থা ভালো মনে হয়। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের বিয়ে-শাদীতে গিফট-উপঢৌকন নিয়ে বেড়াতে যায়।
হোটেল-রেষ্টুরেন্টে গেলে বিলও পরিশোধ করে। বাড়তি কোন চাপ আসলেই এরা মুচড়ে যায় কিংবা নিজের কর্মটি বন্ধ হয়ে গেলেই এরা ভেঙে পড়ে। এলোমেলো হয়ে যায় সংসার-পরিবার। খেতেও পারে না, কারও কাছে চাইতেও পারে না। এদের কাছে কেউ ত্রাণ দিতেও আাসে না, কারও কাছ থেকে ত্রাণ চাইতেও পারে না।
এদের মধ্যে যারা শহরে বাস করেন, তারা পড়েছেন মহা বিপাকে। তারা কি পেটের ভাত জোগাড় করবে? না বাড়ি কিংবা দোকান ভাড়া দিবে। এ ক্ষেত্রে বাড়িমালিকদের বাড়ি বা দোকান ভাড়া মওকফই তাদের বাঁচাতে পারে।
অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, স্কুল-মাদ্রাসা এবং মিল-ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। মাসের বেতনে ভালোই চলে তাদের সংসার। পরিবার বুঝতেই পারে না দুঃখ-কষ্ট। কিন্তু চাকরিতে যেতে কিংবা মাসের বেতন পেতে একটু হেরফের হলেই সংসারের চাকা আর চলে না।
নিম্নবিত্তের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে আবার অনেকেই কাঁধে করে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি আমরা। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
এমন সমাজ ব্যবস্থাই আমরা আশা করি।
কিন্তু এই সময়ে একটুও কি খবর রাখছি, মধ্যবিত্ত নামক দিশেহারা এবং নীরবে চোখের জল ফেলানো মানুষগুলোর? তারা কিভাবে খাচ্ছে? কিভাবে চলছে তাদের সংসার? চাকুরি কিংবা ব্যবসা তো বন্ধ হয়ে গেছে অনেকদিন হলো।
এতদিন বসে খাওয়ার ক্ষমতা কি তাদের আছে?
এ সময়ে সবচেয়ে বেশি অসহায় কওমি আলেমরা। তারা হলো সমাজের ভদ্র গরীব। খোঁজ নিলে হয়তো জানতে পারব, সাধারণত কওমি মাদ্রাসাগুলোতে বছর শেষে এমনিতেই বেতন বকেয়া পড়ে যায়, তার ওপর করোনা ভাইরাসের কারণে হঠাৎ মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অধিকাংশই বেতন ছাড়াই ঘর ধরেছেন। তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিত্তশালীদের জন্য এই শ্রেণিটির সহযোগিতায় এগিয়ে আসা নিতান্তই প্রয়োজন।

No comments